![]() |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মিলিটারি ট্রেনিং এরিয়া (বিএমটিএ) এলাকায় মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় পাহাড়গুলোতে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল গড়ে উঠেছে এবং সেখানে হরিণের বিচরণভূমি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের চালিঘাট এলাকায় গোপনে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি শিকারি চক্র হরিণ শিকার করে আসছিল। বন বিভাগের বান্দরবান সদর রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিকারি চক্রের হরিণ শিকারের বিষয়টি আগে থেকে জানা ছিল, কিন্তু প্রমাণের অভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হচ্ছিল না। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই অভিযান বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। গ্রেপ্তার চক্রটি সক্রিয়ভাবে পাহাড়ে ফাঁদ পেত এবং হরিণ শিকার করত, যা স্থানীয় পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছিল। বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি এবং অভিযান চালিয়ে এই ধরনের অবৈধ শিকার চক্রের কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা চলার পরবর্তী পর্যায়ে তাদের দণ্ড ও পরিবেশ সংরক্ষণে আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে অনুকরণীয় উদাহরণ তৈরি করা হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে বনাঞ্চলে চলমান অবৈধ শিকার চক্রের খবর জনগণ এবং প্রশাসনের কাছে এসেছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে সচেতন করে তুলতে সহায়ক হবে। বনাঞ্চলে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয়দের অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে হরিণ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

Post a Comment